সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০০৯

ঝটিকা সফরে বগুড়া

অফিসের কাজে একদিনের জন্য বগুড়া যাওয়ার প্রোগ্রাম। সাথে ডাচ এডভাইজার ও একজন কলিগ। আমি যাওয়াটা এভয়েড করতে পারতাম, কিন্তু মহাস্থান গড় দেখার লোভে লোভে আমিও অংশ নিলাম। প্রোগ্রাম ঠিক হল সকালে রওনা দিয়ে বগুড়ায় অফিসের কাজ শেষ করে মহাস্থান ঘুরে সেদিনই ফিরব।

সকাল আটটা বিশে এডভাইজার আরির সাথে শেরাটন থেকে যাত্রা শুরু। শুক্রাবাদে রিটন যোগ দিল আমাদের সাথে। আরি বলেছিল বাংলা গানের সিডি সংগে নিতে। কোনো কিছু শেখার বিষয়ে ইউরওপিয়ানদের আগ্রহ অতুলনীয়। বই পড়ে পড়ে আরি এখন বাংলা পড়তে পারে। খানিকটা লিখতেও পারে। হুমায়ুন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন পড়ে ভক্ত হয়ে গেছে। জাফর ইকবালের সাথে কথা বলেছে তার সাইন্সফিকশন ডাচ ভাষায় অনুবাদ করে হল্যান্ডে প্রকাশ করবে।

গাড়ি ঢাকার জ্যাম ছাড়িয়ে মিরপুর বাধের উপর দিয়ে চলছে। প্লেয়ারে গান চলছে হায়দার হোসেইনের। ফাইস্যা গেছি সহ বাকি গান গুলি আরির মনে ধরল খুব। গান শেষ হলে লেপটপে পুরা সিডি কপি করে রাখল।





যমুনা সেতুর কাছাকাছি চলে এসেছি। সকালে উঠেছি ঘুম থেকে। ঘুম ঘুম ভাব আছে। আরি দেখলাম ঘুমিয়ে পড়েছে। চা খাওয়া দরকার। বিশেষ করে সিগারটের জন্য মন আকু পাকু করছে। সুন্দর একটা রেস্টহাউস পাওয়া গেল। গাড়ি থামানোর পর আরি জিজ্ঞাস করল যমুনা সেতু কি পেরিয়ে এসেছি। দুষ্টুমি করে বললাম হ্যা। তুমি ঘুমিয়ে মিস করছ। চা সেন্ডউইচ খেয়ে এবং সিগারেট টেনে আবার যাত্রা।

রাস্তা এত স্মুথ, পরিস্কার যে অবাক লাগে। কোথাও খানা খন্দ নাই, বেশি ট্রাফিক নাই আরামে স্বাচ্ছন্দে গাড়ি চলল। খহানিকক্ষণ চলার পর যমুনা সেতুতে চলে আসলাম। আরি, প্রশ্ন করে কি ব্যাপার? আমি বলি, এইটা আরেকটা সেতু জমুনা সেতু আগেই পার হয়েছি। মজা করছি সে বুঝে যায়। বলে তারও সময় আসবে।


যমুনা সেতুর ছবি তোলার অনেক কোশিস করলাম। চলন্ত গাড়িতে প্রায় অসম্ভব। গাড়ি থামিয়ে তোলা যেত। সেটা রিস্কি হয়ে যায় বলে বাদ দিলাম। নদীর ছবি তুললাম। যমুনা পার হয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর আরেকটা হোটেলে আবার বিরতি।

এবার দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য। আগে দেখেছি আরি মসলা কমযুক্ত খাবার প্রেফার করত। কিন্তু এখন বিরানি অর্ডার দিল নিজের জন্য। বিরানির এমন চেহারা কখনো দেখি নাই। মসলা দিয়ে কালো বানিয়ে ফেলছে। আরি বলল বেশ মজা হয়েছে। আমরা কালো বিরানিতে না গিয়ে চিকেন ফ্রাইড রাইস, কারি সালাড ইত্যাদি দিয়ে ভরপেট না ভর গলা খেয়ে বগুরার দিকে ছুটলাম।
ziaurrahmanmedicalcollege1
বগুড়া শহরের কিছুটা বাইরে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বাংলাদেশে কোনো সরকারি হাসপাতাল এত চাকচিক্য জৌলুসময় হতে পারে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। না জানলে প্রাইভেট হাসপাতাল বলে ভুল হতে বাধ্য। আশাকরি সেবার মানও বাইরের রং চং এর মত উন্নত হবে। যায়গামত পৌছতে পৌছতে বিকাল হয়ে গেল। অফিসের কাজ ঘন্টা দেড়েকের মত চলল। কাজশেষ করেই দৌড় মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ও সর্ব প্রাচীন নগর পুন্ড্রনগরের ধ্বংশ বশেষ বিদ্যমান। প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে করোতোয়া নদীর তীরে এ জনবসতি গড়ে উঠে।


ঐতিহাসিক বিষয়, পূরাকীর্তি বিশেষ করে বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও পূরাকীর্তি আমার প্যাশন। প্রাচীর ঘেরা মহাস্থানগড় তাই আমার জন্য অনাবিল আনন্দের উৎস। কিন্তু আফসোস হলো তার চেয়ে বেশি। সারাদিন যদি এখানে পরে থাকতে পারতাম! এই বিখ্যাত প্রাচীন শহরের প্রচীরের উপর দিয়ে পুরাটা না হাটতে পারার বেদনা রইল সময় স্বল্পতার জন্য। ঐতিহাসিক এ নগরের উদ্ধার কাজ ঠিকমত হয়নি বলে আরি দুঃখ প্রকাশ করল। জানাল আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে উপর থেকেই মাটির নিচের অবস্থান নির্ণয় করা যায়।




সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে সেদিনই ঢাকা ফিরতে হবে। তাই অনিচ্ছাস্বত্বেওচলে আসতে হলো। তবে যাওয়া আগে আরেকটা পূরাকীর্তি দেখতে গেলাম। এটা নাকি বেহুলার বাসর ঘর। আবার কেউ বলে বৌদ্ধ মন্দির।

প্রাচীন ইটের স্থাপনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রত্নতত্ত বিভাগ চেষ্টা করছে রক্ষা করার।

মন্দিরের একেবারে উপরে কূয়ার মত গোলাকৃতির ঘরের দেখা মিলে। অনেক কিংবদন্তি আছে এটা নিয়ে। এখানেও সময় স্বল্পতায় বেশিক্ষণ থাকা গেলনা। বগুড়ার বিখ্যাত কটকটি খেয়ে রওনা দিলাম ঢাকার পথে। মাঝে শেরপুরে গাড়ি থামি বিখ্যাত দই কেনা হলো। আরিকেও এক কেজি কেনালাম। যদিও দই এই ব্যপারে খুব আগ্রহ দেখায় নাই। পরে খেয়ে অবশ্য বলেছে বেশ মজা লেগেছে।

———————————————————–
জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ছবি : এখান থেকে


বিস্তারিত পড়ুন...

বিরিশিরি ভ্রমন [শেষ] : কলমাকান্দা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে

birishiri-28
বিরিশিরিতে দুইদিন থাকলাম। পরেরদিন ফিরতে হবে ঢাকায়। আমি আরো দুই একদিন বেশি থাকতে পারতাম। কিন্তু ইকবাল, মুকুল ওরা বউ এর কাছে একদিনের ছুটি নিয়ে এসে দুই দিন পার করল। এর বেশি আর সাহস করলনা ওরা। রাতে মুন্নির উৎসাহের খিছুড়ি রান্না করল মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে। মাটির চুলা দেখে রিমঝিমের আনন্দের শেষ নাই। পরদিনের প্রোগ্রাম হল সকালে ৩২ কি.মি দূরে কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তে মুক্তযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে ঘুরে এসে দুপুরে ঢাকার উদ্দ্যেশে রওনা দেয়া। টেম্পু ভাড়া করে যাওয়া উচিৎ। কিন্তু রিক্সা চালকদ্বয়ের প্ররোচনায় দূরত্বের কথা ভুলে গিয়ে ওদের সকালে আসতে বললাম। ওরা বলল এক ঘন্টায় পৌছে দিবে।

বিস্তারিত পড়ুন...

বিরিশিরি ভ্রমন ৬ : সাধু যোসেফের ধর্ম পল্লী ও ডাহুপাড়া বনে

birishiri-22
কুমুদিনী হাজং এর সাথে দেখা করার পর এবার আমাদের গন্তব্য রানীখং সাধু যোশেফের গীর্জা। ভারতীয় সীমান্তের কাছে পাহাড়ের চূড়ায় গীর্জা। স্থাপিত ১৯১২ খ্রীঃ। অবাক লাগে এত আগে এ প্রত্যন্ত অঞ্চলে খ্রষ্টান ধর্মপ্রচারকরা গীর্জা স্থাপন করতে চলে এসে ছিলেন।

বিস্তারিত পড়ুন...

বিরিশিরি ভ্রমন ৫ : কুমুদিনী হাজং এর সাথে সাক্ষাত


দুই একজন কে জিজ্ঞাস করলাম কিন্তু বলল চিনেনা। তবে একজন মধ্য বয়স্ক বাঙালি চিনলেন। তিনি রিক্সা চালকদের বলে দিলেন কুমুদিনী হাজং এর বাড়ির কিভাবে পৌছান যাবে। ধন্যবাদ দিয়ে চললাম ওনার নির্দেশিত পথে।

কুমুদিনী হাজং টংক আন্দোলনের নেত্রী। এটা ছিল ১৯৪৬-৫০ সাল এ এলাকার কৃষকদের পরিচালিত একটিআন্দোলন। টংক প্রথা হলো উৎপন্ন ফসল দ্বারা জমিদারদের খাজনা পরিশোধ করা। যেটা টাকায় খাজনা পরিশোধের চেয়ে বেশি ছিল। হাজং সম্প্রদায় এ ব্যাবস্থায় দিনে দিনে নিঃস্ব হয়ে পরে। এ সময় সুসং দুর্গাপুরের জমিদারদের ভাগ্নে কমিউনিস্ট নেতা কমরেড মনি সিংহ-এর নেতৃত্বে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে টংক প্রথা উচ্ছেদ, টংক জমির খাজনা স্বত্ব, জোত স্বত্ব, নিরিখ মতো টংক জমির খাজনা ধার্য, বকেয়া টংক মওকুফ, জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ ইত্যাদি দাবি নিয়ে টংক আন্দোলন শুরু হয়। হাজং সম্প্রদায় নিজেদের স্বার্থেই টংক আন্দোলনের সংগে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছিল। সে সূত্রেই কুমুদিনী হাজং এর স্বামী লংকেশ্বর হাজং ও তাঁর তিন ভাই টংক আন্দোলনের সংগে জড়িয়ে পড়েন।



এই বিদ্রোহ দমন করার জন্য জমিদার ও বৃটিশ পুলিশ দমন নিপীড়ন চালাতে থাকে। ১৯৪৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০ টার দিকে বিরিশিরি থেকে ৪ মাইল উত্তর-পশ্চিমে বহেরাতলী গ্রামে ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেল বাহিনীর একটি দল লংকেশ্বর হাজংএর বাড়িতে হানা দেয়। কিন্তু তাদের না পেয়ে অষ্টাদশী গৃহবধু কুমুদিনী হাজং কে বন্দী করে বিরিশিরতে নিয়ে যেতে থাকে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পরলে রাশিমনি হাজং এর নেতৃত্বে হাজার হাজার হাজং নারী পুরুষ বৃটিশ পুলিশ বাহিনীকে ঘিরে ফেলে ও কুমুদিনী হাজংকে ছেড়ে দিতে বলে।

ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেল বাহিনীর সেনারা হাজং গ্রামবাসীর কথা কর্ণপাত না করে বিরিশিরির দিকে যেতে থাকে। রাশিমনি হাজং কয়েকজন মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে কুমুদিনী হাজংকে ছাড়িয়ে নিতে গেলে সশস্ত্র সেনারা নৃশংসভাবে তাঁদের ওপর গুলি চালায়। এতে রাশিমনি হাজং গুলি বিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ নৃশংস হত্যাকান্ড দেখে পেছনের পুরুষ দলের নেতা সুরেন্দ্র হাজং রাশিমনিকে ধরতে গেলে তাঁকেও নির্দয়ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অন্যান্য হাজং নারী পুরুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সশস্ত্র সেনাদের উপর বল্লম ও রামদা দিয়ে হামলা চালায়। তাঁদের হামলায় ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেল বাহিনীর দু’সেনা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। বাকি সেনারা দৌঁড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করে।

রাশিমনি হাজং হাজং দের কাছে আজও হাজং মাতা হিসাবে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার পাত্র।
নিঃসন্তান হয়েও হাজংদের অধিকার ও নারী সংগ্রামের প্রতীক রাশিমনি হাজং সম্প্রদায়ে হাজং মাতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন আর কুমুদিনী হাজং হয়ে ওঠেন টংক আন্দোলনের প্রেরণার উত্‍স। কুমুদিনী হাজং এরপর আন্দোনল প্রত্যক্ষ ভবে অংশ গ্রহন করেন। তিনি গ্রামগুলোতে সরকারের অন্যায় অত্যাচারের প্রতিরোধ আন্দোলন ও টংক প্রথার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে সাংগঠনিক কর্ম তত্‍পরতা চালান। ১৯৫০ সালে জমিদার প্রথার বিলুপ্ত সাধন পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকে। “পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত আইন ১৯৫০” -বলে সকল টংক কৃষককে তার দখলীকৃত জমির স্বাভাবিক মালিক হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

এই হলো ইতিহাস। এইবার বর্তমানে ফিরি। রাস্তা ছেড়ে কিছু দূর গিয়ে এক বাঙালির বাসায় জিজ্ঞাস করলে তারা উৎসাহের সাথে দেখিয়ে দেয় বাড়ি। সে বাড়ির ছোট একটা ছেলে সাথে করে পথ দেখি নিয়ে যায়। এই সেই কুমুদিনী হাজং এর বাড়ি। একটা টিলার উপর টিনের বাড়ি। মেঝে পাকা। উঠানে ফুলের গাছ। পুজার জায়গা। অনন্যা সম্পাদিকা ও প্রাক্তন সাংসদ তাসমিমা হোসেন এই টিনের ঘরটি তৈরি করে দিয়েছেন। বাড়ি পাওয়া গেল কিন্তু যার কাছে এসেছি তাঁকে পাওয়া গেলনা। মেয়ে মেঞ্জলী হাজং এর বাড়ি বেড়াতে গেছেন। সেটা বিজয়পুর সীমান্তের পাশে। কুমুদিনী হাজং এর ছেলের সাথে কথা বলে বিদায় নিলাম। এবার টার্গেট বিজয়পুর সীমান্তে মেঞ্জলী হাজং এর বাড়ি।

বিজয়পুর সীমান্তের কাছে বিডিআর ক্যাম্প। ক্যাম্পে জিজ্ঞাস করে জানা গেল কেউ চিনেনা তাকে। তবে পাশের হাজং পল্লীতে খোঁজ করে জানা গেল বিডিআর ক্যাম্প পার হয়ে যেতে হবে। সেজন্য অনুমতি নিতে হবে। কারণ জায়গাটা একদম সীমান্তের সাথে তার পরেই ভারত। পরিচয় নিয়ে এবং যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাস করে অনুমতি দেয়া হয়।

নদীর পাশে একেবারে শান্ত হাজং পল্লীতে সাধারণ হাজংদের মত দরিদ্র কুটির। বাসায় একাই ছিলেন এই অশীতিপর নেত্রী। আমরা তাকে দেখতে এসেছি শুনে শিশুর মত আনন্দ ঝলমল করে উঠে চোখমুখে। রিমঝিমকে খুব আদর করলেন। জড়িয়ে ধরে দোয়া করলেন অনেক। আমার শুনতে চাইলাম তার সেই সময়কার কথা। কিন্তু বয়স হয়ে গেছে কিছু মনে করতে পারলেন না। জানালেন মাঝে মাঝে লোকজন আসে তাঁকে দেখতে।

আমরা যখন কথা বলছিলাম একজন সর্বদা হাসিমুখের মহিলা ভেজা শরীর নিয়ে তাড়াতাড়ি নৌকা চালিয়ে আমাদের কাছে আসেন। তিনিই মেঞ্জলী হাজং। সাথে ছোট ছেলে। নদীতে গিয়েছিলেন লোকজন কিভাবে কয়লা তুলে দেখতে।

আমি মনে মনে ভাবছিলাম কুমুদিনী হাজং এর জন্য কোন উপহার নিয়ে আসা উচিৎ ছিল। এখন টাকা দিলে কিছু মনে করবেন কীনা। আমি ইকবাল ও মুকুল কিছু টাকা ওনার হাতে দিলে নিতে চাননা। ইকবাল বলে, ”আমরাতো কোনো উপহার নিয়ে আসিনি আপনার জন্য টাকাটা রাখুন, আপনার মেয়েকে ,নাতিকে জন্য কিছু কিনে দিয়েন।’

অদ্ভুত সারল্য ভরা মনুষটা, অপরিচিত আমারা যেন তার কত আপন। তবে একটা জিনিস মনে বিধে। সব কিছু ছাপিয়ে দারিদ্রের চেহারা ফুটে উঠে, মনটা খারাপ হয়ে যায়। প্রশ্ন করি সরকার থেকে কোনো ভাতা পান কীনা? উত্তর আসে কখনই পান নাই। খুব অবাক হই না। কোথাকার কোন আদিবাসি কৃষক আন্দোলনের নেত্রিকে নিয়ে রাষ্ট্রের মাথা ব্যাথা না থাকারই কথা। কিন্তু মুকুলের মাথাব্যাথা আছে।

মুকুল সম্পর্কে দুইটা কথা বলা দরকার। মুকুল পয়সাওলা না। মোটামুটি একটা চাকরি করে। তা দিয়ে পরিবার নিয়ে বাসা ভাড়া করে ঢাকাতে থাকে। এরমধ্যেও প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা আলাদা করে রাখে গ্রামের অসহায় দরিদ্র বৃদ্ধা মহিলাদের জন্য। চারশ টাকা করে পাঁচ জনকে প্রতি মাসে পাঠায় টারা যেন একটু ভালো ভাবে থাকতে পারে। তার স্বপ্ন টাকা হলে একটা ওল্ড হোম করা যেখানে এরকম অসহায় দরিদ্র বয়স্ক লোকজন, যাদের দেখার কেউ নাই তারা যেন জীবনের শেষ কয়টা দিন থাকা খাওয়ার কষ্ট না পায়।

মুকুল জানায় তার সাহায্য করা পাঁচ জনের একজন মারা গিয়েছে। সেই জায়গায় কুমুদিনী হাজং কে দিতে চায়। সেজন্য মেঞ্জলীর কাছ থেকে মানি অর্ডার করার ঠিকানা নেয়। বয়সে ছোট মুকুলের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে।

ফিরে আসার সময় নিকটাত্মীয়কে বিদায় দেয়ার মত কুমুদিনী হাজং ও তার মেয়ে আমাদের রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। যতক্ষণ দেখা যায় হাসিমুখে দাড়িয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত তার সাথে দেখা করতে পেরে আমাদের মন গর্ব ভরা প্রশান্তিতে ছেয়ে থাকে।

এরমধ্যে আমার মাথায় একটা ভাবনা ঘুরপাক খেতে থাকে। কত টাকাই তো আমারা কতভাবে খরচ করি। কিন্তু আমরা কি পারিনা কুমুদিনী হাজং এর জন্য এমন একটা কিছু ব্যাবস্থা করতে, হতে পারে একটা গাভী কিনে দিয়ে, যাতে করে এই জীবন্ত কিংবদন্তির শেষ কয়টা দিন আরেকটু ভালো ভাবে কাটতে পারে?

বিস্তারিত পড়ুন...

বিরিশিরি ভ্রমন ৪ :চীনা মাটির পাহাড়ে


সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রিক্সা হাজির। নাস্তা গোসল করে রাওনা হতে হতে সকাল নয়টা। আমাদের প্রথম গন্তব্য বিজয়পুর চীনা মাটির পাহাড়। সোমেশ্বরী নদী পার হতে হবে। অবশ্য নদীর বেশিরভাগ অংশ সবাই হেটেই পার হয়।

বিস্তারিত পড়ুন...

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০০৯

বিরিশিরি ভ্রমন ৩


নদী থেকে ফিরে বিরিশিরি বাজারে গিয়ে গারো মালিকানার হোটেলে চা নাস্তা খেয়ে আবার হাটতে হাটতে নদীর উপর ব্রিজে দাড়াই। নীচে সোমেশ্বরী আর আকাশে লক্ষ লক্ষ তারা। বিশাল আকাশ। শহরে এত বড় আকাশ দেখা যায় না। এই মায়াবী পরিবেশে ঘন্টা খানেক কাটিয়ে ফিরে চললাম একাডেমি গেষ্ট হাউসে। রাতে খাবারের বিষয়ে ইকবালের একটা প্রস্তাব ছিল যে এখানে চুলা আছে আমার হোটেলে না খেয়ে বরং নিজেরা রান্না করে খাই। বেড়াতে এসে মুন্নী রান্না করতে রাজী হবে না ভেবেছিলাম। কিন্ত দেখা গেল সে নিজে থেকেই সবাইকে রান্না করে খাওয়াতে উৎসাহী। সেদিন অনেক জার্নি হয়েছে তারপর রাত হয়ে গেছে সেজন্য রান্না না করে হোটেল থেকে খাবার আনার সিদ্ধান্ত হয়। হৃদয় হাজং কে নিয়ে সেই গারো হোটেলে রাতে খাবার ওসকালের নাস্টার অর্ডার দিই। হোটেল থেকে গেস্ট হাউসে খাবর পৌছে দেয় সময় মত।

বিরিশিরি নিয়ে দুইটা কথা বলি। বিরিশিরি বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। নেত্রকোনা থেকে ত্রিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইংরেজ শাসন আমলে স্থাপিত শত বছরের পুরনো বয়েজ ও গালর্স হাই স্কুল, সরকারী উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী, সোমেশ্বরী নদী, সাগর দিঘী, পুরাকীর্তি নিদর্শন মঠগড়, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ আর দর্শনীয় স্খানগুলোর কারনে পর্যটকদের কাছে এটির যেথষ্ট সুনাম আছে।



দূর্গাপুর উপজেলায় বাঙালি ছাড়াও গারো ও হাজং ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠির বাস। গারোরা সংখ্যায় অনেক বেশি ও বেশির ভাগ খ্রিষ্টান। হাজংরা সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। সংখ্যায় মাত্র চব্বিশ হাজার। হাজংরা খুবই সহজ সরল ও হাসি খুশি প্রকৃতির মাটির মানুষ। একেবারে সীমান্তের কাছে হলেও দূর্গপুর উপজেলা উন্নত মনে হল। সিনেমা হল, স্কুল কলেজ , কমিনিউটি সেন্টার হাট বাজারে সমৃদ্ধ।

খারাপ লাগল যে বাজারের দোকানের নিরানব্বই ভাগ মালিকই বাঙালি। মাঠের জমির মালিকও বাঙালি কীনা কে জানে। তবে বাঙালি আদি বাসীদের মধ্যে সম্প্রীতি আছে আপাত দৃষ্টিতে মনে হল। বাঙালীর দোকানে আদিবাসি আবার আদিবাসির দোকানে বাঙালি বসে চা বিস্কুট খাচ্ছে । একসাথে গল্প গুজব করছে। বাঙালি মোটর সাইকেল চালকের পেছেন বসে যাত্রি হয়ে দুইজন গারো মেয়েকে রাস্তা পাড়ি দিতে দেখা গেল।

আমাদের কেয়ার টেক করছে হৃদয় হাজং। জীবনে এই প্রথম একজন হাজং সম্প্রদায়ের লোকের সাথে দেখা। আমরা চেষ্টা করলাম যতটুকু পারা যায় তাদের জীবন যাপন সংস্খৃতি সম্মন্ধে জানার। কিন্তু হৃদয় হাজং দের আলাদা সংস্কৃতি প্রকাশ করার চাইতে বাঙলিদের সাথে তাদের মিল দেখাতেই আগ্রহী বেশি। বার বার চেষ্টা করেও স্পেশাল হাজং খাবারের নাম বের করতে পারলামনা। বলে বাঙালিদের মত ভাত মাছ খায়। হতেও পারে। আমাদের সাথে চেহারায় মিল আছে বাংলাও সবাই ভালো বলতে পারে।

আজকের মত যাতে ঝামেলা না হয় সেজন্য রাতে গেষ্ট হাউজে ফিরে আগামি কালকের ভ্রমন যোগ্য স্থান নির্বাচন করার জন্য মিটিং এ বসা হল। বাংলা লিংক বাংলার পথের ব্লগার টিংকু ট্রাভেলারের টিপস প্রিন্ট করা ছিল সাথে। ঠিক হয় প্রথমে যাব রিক্সা সহ নদী পার হয়ে বিজয়পুর চীনা মাটির খনি দেখতে। সেখান থেকে রাশিমনি হাজংয়ের সৌধ। তারপর ইকবালের বিশেষ আগ্রহে টংক আন্দোলনের নেত্রী জীবন্ত কুমুদিনী হাজং এর সাথে দেখা করা। সেখান থেকে রানীখং পাহাড়ের উপর সাধু যোসেফের গীর্জা।

গ্রামের রাস্তায় চলার উপায় দুইটা, মোটর সাইকেল ও রিক্সা। আমাদের গন্তব্য বিরিরিশিরি থেকে বেশ দূরে সীমন্ত সংলগ্ন হওয়ায় মোটর সাইকেলই উপযুক্ত যানবাহন ছিল। কিন্তু সাথে মহিলা ও বাচ্চা থাকায় কাল সারা দিনের জন্য দুইটা রিক্সা ভাড়া করা হয়। রিক্সা চালকদ্বয়ের নাম সুলতান ও সুমন। সুলতানের আবার মোবাইল আছে। ওদের বলা হয় পরের দিন সকাল সোয়া আট টায় রিক্সা নিয়ে হাজির থাকার জন্য।


বিস্তারিত পড়ুন...

বিরিশিরি ভ্রমন ২ : সোমেশ্বরীর বুকে

শুক্রবার খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে যায়। গোসল, নাস্তা করে রেডি হতে হতে মুকুলের ফোন। কথামতো সকালেই পৌছে গেছে বাসস্ট্যান্ডে। মুন্নি, রিমঝিম এবং আমিও আট টার মধ্যে মহাখালী পৌছে যাই। ইকবাল আসে সাড়ে আট টায়। টিকেট কেটে বাস ছাড়ার অপেক্ষা। কয়েক পর্ব চা সিগারেট খাওয়া হয়ে যায়।

সাড়ে আট টায় বাস ছাড়ার কথা কিন্তু বাস ছাড়ার লক্ষণ নাই। সমস্যা হয়েছে যাত্রী হয়েছে মাত্র সাত জন। পরে আমাদের বাসের সাতজনকে ৯ টার সময় যে বাস ছাড়ার কথা সেটায় ট্রান্সফার করা হয়। বাস বদলের পর শুরু হয় ঢাকা টু বিরিশিরি যাত্রা। ডাইরেক্ট বাস হলেও যায়গায় যায়গায় লোক উঠায়। নেত্রকোনা পর্যন্ত্য রাস্তা মোটামুটি হলেও তারপর থেকে শুরু ভাঙাচুরা রাস্তা। কয়েকটা স্থানে ব্রিজ ভাঙা। গাড়ি রাস্তা ছেড়ে নিচে ফসলের জমিতে নেমে ভাঙা অংশ পার হয়। বর্ষাকাল না হওয়াতে রক্ষা খেতের উপর দিয়ে যাওয়া গেছে। নাইলে সরাসরি বিরিশিরি যাওয়া সম্ভব হত না।

বিস্তর ঝাকুনি খেতে খেতে বিরিসরি পৌছলাম দেড়টার সময়। মনে সাড়ে চার ঘন্টা লাগলো। বাসস্ট্যান্ড থেকে মিনিট খানেক লাগল উপজাতীয় শিল্পকলা একাডেমি পৌছতে।


শুক্রবার বলে একাডেমি বন্ধ। একাডেমির উপ পরিচালক ছুটিতে। গেস্ট হাউসে পরিচালকের এটেন্ডেন্ট হৃদয় হাজং রুম খুলে দেয়। গোসল করে ফ্রেস হওয়ার পর খাবার এর চিন্তা। ইকবাল হৃদয় হাজং এর সাথে আলোচনা করে ঠিক করে ভাত খেয়ে বিকালে কোথায় ঘুরতে যাওয়া হবে। হৃদয় হাজং রিক্সা চালকদের বুঝিয়ে দেয় কোথায় কোথায় যেতে হবে। দুইটা রিক্সা নিয়ে আমরা দূর্গাপুরে নিরালা হোটেলে গিয়ে পেট ভরে ভাত খাই। এইবার ঘুরে দেখার পালা। রিক্সা চালকরা মিনিট দশেক চালিয়ে এক যায়গায় থামায়। একটা একতলা বিল্ডিং সাইনবোর্ডে লেখা নাম এমকে ল্যাবরেটরিজ। এইখানে দেখার কি আছে জিজ্ঞাস করলে বলে এইটাই ইকবালের বলা যায়গা। কিছু একটা ভুল হয়েছে বুঝে আমরা ইকবালকে দুয়ো দিয়ে পরবর্তি গন্তব্য সুসং রাজার বাড়ি তে যেতে বললাম। বেচারা ইকবাল টিটকারি টিপ্পনি নীরবে হজম করল।

এখানেও ধরা। রাজার বাড়ি খুঁজে পেলাম না। মূল রাজার বাড়ি নাকি ভেঙে কলেজ বানানো হয়েছে। আগের দিনের একটা স্থপনা অবশ্য পাওয়া গেল। পুরান একটা বাসা সাইনবোর্ডে লেখা উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বাস ভবন, সেটা সম্ভবত রাজাদের কাচারি ঘর হবে। আমরা মোটামুটি আশাহত হয়ে চিন্তা করলাম এইসব দেখে টেখে কাজ নাই। বরং সোমেশ্বরী নদীতে ঘুরে আসি।

আবারও মিনিট দশেক চলার পর সোমেশ্বরী নদীর উপর ব্রীজে। সেখান থেকে নদীর দৃশ্য খুব মনোরম। দূরে মেঘালয়ের পাহাড় দেখা যায়।
birishiri2
নদীতে অবশ্য পানি খুবই কম। কোথাও হাটু পানিও নাই। লোক জন অল্প পানিতে কয়লা তুলছে। একটা নৌকা ভাড়া করা হলো। নৌকায় উঠার সময় একজন কয়লা উত্তোলন কারীর সাথে দেখা। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। হাসি মুখে জানাল আজকের মত কাজ শেষ। দুইশ চল্লিশ টাকার কয়লা তুলেছে আজ। মাছ ধরার ঠেলা জাল দিয়ে নদীর বালু পানি ছেকে কয়লা সংগ্রহ করে। একমন আড়াইশ টাকার মত বিক্রি হয়।
brishiri4
সোমেশ্বরীর পানি শুকিয়ে শুধু বালু আর বালু। পানির ধারা খুবই অল্প। কোথাও নৌকাও চালানো কষ্ট। সবাই নদীর মাঝখানে নৌকা থেকে নেমে অল্প পানিতে হাটাহাটি করলমা কিছুক্ষণ।
birishiri
লোকজন দেখলাম বালু গর্ত করেও কয়লা তুলছে। এক মহিলার ছবি তুলতে গেলে বিরক্ত হয়ে সরে গেলেন। বলেন, ‘আমাগো অত রং নাই’।
brishiri-sunset
নদীর মাঝখানে পানিতে বালুতে হাটাহাটি করে, সুর্যাস্ত দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে এল।


বিস্তারিত পড়ুন...

বিরিশিরি ভ্রমন ০১: পরিকল্পনা ও তথ্য সংগ্রহ


হঠাৎ করেই প্রস্তাবটা আসে ইকবালের কাছ থেকে। ইকবাল আমার প্রাক্তন বস বর্তমানের বন্ধু। সেদিন রাতে ফোন করে বলে অনেকদিন বাইরে যাওয়া হয় না। ঢাকা থাকতে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসছে। নেত্রকোনার বিরিশিরি যাব কীনা। বললাম চিন্তা করে দেখি। আসলে আমিও চাচ্ছিলাম পরিবার নিয়ে কোথাও বেরিয়ে আসতে। মুন্নি অনেক দিন ধরে ঘ্যান ঘ্যান করছিল বেড়াতে যাবার জন্য। মুন্নি কে বলে ইকবালকে কনফার্ম করলাম যাবো। প্রক্তন কলিগ মুকুলও শুনে আগ্রহি হয়ে উঠল।

বিস্তারিত পড়ুন...

বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০০৯

যাপিত জীবন : কন্যার আগমন


আমার বউ কনসিভ করার কয়েক মাস পর থেকেই কিছু জটিলতা দেখা যায়। ওর ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়। আর কিছুটা ডিপ্রেসন ভুগে। তাই প্রতি সপ্তাহে ডাক্তারের কাছে চেকাপ করাতাম।

আট মাস পার হয়ে গেছে। বউ এর পেটের ভিতর বাচ্চার নড়াচড়া তখন স্পষ্ট। ডাক্তারের দেয়া ডেলিভারির ডেট ছিল আরো একমাস পর। সেদিন বউ বলছিল বাচ্চা নড়াচড়া করছে না আর পেটের এক পাশে সরে গেছে। কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। পরদিন ছিল ডাক্তারের কাছে এপয়নমেন্ট। ভাবছিলাম ঐদিন গিয়ে ডাক্তার দেখাবো। এমন সময় মা দেখে বলল, 'এখনই ডাক্তারের কাছে যাও, এসব নিয়া গাফিলতি করা ঠিক না'। ফোনে সিরিয়াল নিয়ে বিকালে ডাক্তারের চেম্বারে চলে গেলাম।

বিস্তারিত পড়ুন...

মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০০৮

যাপিত জীবন: মিছিল শ্লোগান অবশেষে ডিগবাজী অবলোকন

সিগারেটে আয়েশ করে টান দিয়ে ধূয়া ছেড়ে শিবলি উদাস চোখে ধুয়ার বাতাসে মিশে যাওয়া দেখছে। মাত্রই আমরা সিগারেট খাওয়া শিখেছি। একটা সিগারেট কমপক্ষে তিনজন ভাগ করে খাই। শিবলির আর দুইটান পরেই আমার টার্ন। এমন সময় চপল সামনের দিকে আঙ্গুল তুলে বলে উঠল, ‘এইরে বাবুল ভাই’। সাথে সাথে আমরা দ্দ্রুত উঠে অন্য রাস্তা দিয়ে বাবুল ভাইয়ের নাগালের বাইরে চলে গেলাম।

বাবুল ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন এবং ছাত্রমৈত্রীর নেতা। তিনি আমাদের মিছিল মিটিং এ নিয়ে যেতেন। রাজনীতি মিছিল ইত্যাদিতে আমাদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও বাবুল ভাইয়ের আগ্রহে প্রথম প্রথম কয়েকটা মিছিলে যেতে হয়েছে। মিছিলের শ্লোগান গুলো ছিল জ্বালাময়ী। এখনও কয়েকটা মনে আছে। যেমন:

কমরেড কমরেড
ভেঙে ফেল ব্যারিকেড।

দিয়েছিতো রক্ত

বিস্তারিত পড়ুন...