বিরিশিরি ভ্রমন [শেষ] : কলমাকান্দা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে

birishiri-28
বিরিশিরিতে দুইদিন থাকলাম। পরেরদিন ফিরতে হবে ঢাকায়। আমি আরো দুই একদিন বেশি থাকতে পারতাম। কিন্তু ইকবাল, মুকুল ওরা বউ এর কাছে একদিনের ছুটি নিয়ে এসে দুই দিন পার করল। এর বেশি আর সাহস করলনা ওরা। রাতে মুন্নির উৎসাহের খিছুড়ি রান্না করল মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে। মাটির চুলা দেখে রিমঝিমের আনন্দের শেষ নাই। পরদিনের প্রোগ্রাম হল সকালে ৩২ কি.মি দূরে কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তে মুক্তযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে ঘুরে এসে দুপুরে ঢাকার উদ্দ্যেশে রওনা দেয়া। টেম্পু ভাড়া করে যাওয়া উচিৎ। কিন্তু রিক্সা চালকদ্বয়ের প্ররোচনায় দূরত্বের কথা ভুলে গিয়ে ওদের সকালে আসতে বললাম। ওরা বলল এক ঘন্টায় পৌছে দিবে।


birishiri-29
আমরা ছিলাম উপজাতীয় কালচারাল একাডেমিতে। এখানে একটা উপজাতীয় যাদুঘর আছে। টানা দৌড়াদৌড়ির কারণে সেটা দেখা হয়ে উঠেনি। সকালে উঠে রেডি হয়ে ঢু দিলাম জাদুঘরে।

দুটো রিক্সায় কমলাকান্দার পথে যাত্রা। সকালের মিষ্টি রোদে দুই পাশের ধানখেতের দৃশ্য দেখতে দেখতে যাত্রা খারাপ লাগছিল না। কিন্তু ঘন্টা খানেক পর বুঝলাম কি ভুল করেছি। রাস্তার অর্ধেকও আসতে পারি নাই। এভাবে চললে সারাদিন কাবার হয়ে যাবে। ফলে মাঝপথে রিক্সাচালকদের ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে টেম্পু ভাড়া করা হলো স্মৃতি সৌধে যাওয়া ও বিরিশিরি ফিরে আসার জন্য।

পথে কালিবাড়ি দেখে রিমঝিম খুব উল্লাসিত। কালিমূর্তির সামনে গিয়ে হাত জোড় করে প্রার্থনাও করল। জিজ্ঞাস করলে জানাল বলেছে, ‘ঠাকুর আমার বড় মার শরীর ভালো করে দাও’। বড় মা হলো আমার নানি। ছিয়াশি বৎসর বয়স। ভালো করে হাটাচলা করতে পারেনা।
birishiri-31
টেম্পু রেখে প্রায় দুই তিন কি.মি হেটে যেতে হয়েছে নদির পার দিয়ে। নদির অপর পাড়ে ভারত। দূর্গাপুরে নদি থেকে লোকজন কয়লা তুলে। এখানে দেখাগেল পাথর তুলছে। পাহাড় থেকে পানির সাথে গড়িয়ে আসা পাথর সংগ্রহ করছে।
birishiri-32
সীমান্ত বর্তি এ এলাকার বেশির ভাগই গারো। মেয়েপুরুষ জমিতে নদিতে কাজ করছে।
birishiri-33
হাটতে হাটতে হাপাতে হাপাতে অবশেষে পৌছলাম মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে। ১৯৭১ সালের ২৬জুলাই কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে নিহত মোট দশজনের দুইটা গণকবর। পাঁচজন হিন্দু ও পাঁচ জন মুসলমানের। সৌধটা একেবারে সীমান্ত পিলারের লাগোয়া বা নোম্যানসল্যান্ডে। একেবারেই দেশের এক কোনায় নির্জনে শুয়ে থাকা মহান মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ। নদীর অপর পারে ভারতীয়দের গোসল করা মাছ ধরা দেখা যায়। দুইজন বিএসএফ সদস্যকে টহল দিতে দেখা গেল।
birishiri-30
আমাদের ভ্রমন শেষ। এবার ফেরার পালা। খারাপ সংবাদ। বিরিশিরি এসে বাসে উঠব কিন্তু খবর এলো সেতু ভেঙ্গে ঢাকার সাথে বাস চলাচল বন্ধ। পরে অবস্থার খানিকটা উন্নতির সংবাদ পাওয়া গেল। কিন্তু সরাসরি ঢাকার বাস চলছে না। বিরিশিরি টু ময়মনসিংহে গাড়িতে প্রথমে ময়মনসিংহ যেতে হবে।

সে এক লক্কড়ঝক্কর অবস্থা। দুই ঘন্টার রাস্তা পার হতে লাগল সাড়ে চার ঘন্টা। রাত আট টা বেজে গেল ময়মনসিংহ পৌছতে। ভয়ছিল ঢাকার গাড়ি ধরতে পারব কীনা। গাড়ি অবশ্য পাওয়া গেল এবং অল্প সময়ে জানজটের ঢাকায় নিরাপদে ফিরে এলাম।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ঝটিকা সফরে বগুড়া